Sat. May 28th, 2022

আব্দুল্লাহ হারুন জুয়েল : এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী প্রতারণামূলকভাবে পীর টাইটেল লাগানোর পাশাপাশি ভুয়া ডক্টরেট ডিগ্রিও ব্যবহার করেন। সম্ভবত তার ডিগ্রি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, যা তার তেহরিক-এ-খতমে নবুয়্যত ওয়েবসাইট দেখলেই বোঝা যায়। সেখানে লেখা রয়েছে ‘ডক্টরেট হিস্টরি আরাবি, ইংরেজি ও বাংলা তিনটি ভাষাতেই দিলাম যেন বুঝার ক্ষেত্রে অসুবিধা না হয়’। বলা হয়েছে নাদওয়াতুল ওলামা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে Master’s Da’wa Master’s in Islamic Fundamentals’করেছে। কোনো বিষয়ের ফান্ডামেন্টালের ওপর গ্র্যাজুয়েশন বা মাস্টার্স হয় কিনা আমি ঠিক জানি না, তবে এমন কোনো ডিগ্রি নাদওয়াতুল ওলামায় নেই। নাদওয়াতুল ওলামা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, তবে কলেজ দাবি করা হয় এবং এর প্রধানকে অধ্যক্ষ বলে, উপাচার্য নয়। লেখা রয়েছে কঁষষরধঃঁষ খঁমধঃরষ অৎধনরধ ডধ অফধনরযধ – এর অর্থ ফ্যাকাল্টি অব এরাবিক ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড লিটারেচার।

আরবি সাহিত্যের সঙ্গে দাওয়া বা ইসলামিক ফান্ডামেন্টালের সম্পর্ক কী? যাই হোক, নাদওয়ায় আরবি ভাষা নিয়ে কোনো ডিপার্টমেন্ট নেই, ফ্যাকাল্টি থাকা তো হাস্যকর ব্যাপার। তবে এখানে আরবি ভাষার একটি কোর্স করানো হয়, যা শুধুই কোর্স, কোনো ডিগ্রি নয়। পিএইচডি: দাবি করা হয়েছে লাক্ষ্ণৌ বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করেছে।

লেখা রয়েছে ‘thesis : Musannafat Ibne Zakaria Fillugatil Arabia, Lukhnwo Universitz.’ লুগাত মানে শব্দকোষ এবং মুসান্নাফ মানে শ্রেণিবদ্ধভাবে একত্রিত করা। ইবনে জাকারিয়ার কথা বলা হয়েছে, তিনি ইবনে জাকারিয়া আল রাজি, প্রখ্যাত মেডিকেল সায়েন্টিস্ট। তার লিখিত বইগুলোর তালিকা নেটেই আছে। তার নামে কোনো লুঘাত নেই। কিছু বিতর্কিত ধর্মীয় বই আছে। আমার ধারণা ফখরুদ্দিন আল রাজি নিয়ে চাপাবাজি করতে গিয়ে ইবনে জাকারিয়া আল রাজির নাম লেখা হয়েছে। তবে ফখরুদ্দিন আল রাজিরও কোনো লুগাত নেই। সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে, লাক্ষ্ণৌ বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবি বা ইসলাম সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয় বা বিভাগ নেই। আব্বাসীর প্রশংসায় এখন যারা পঞ্চমুখ তাদের সে কখনো কাফের বলেছে, কখনো মুশরিক বলেছে, কখনো বলেছে, তারা মুসলমানই হতে পারে না। এখন যদি তার কথা ওহি তুল্য হয়, তাহলে আগের কথাগুলো মেনে নিলেই হয়। এই গোষ্ঠীর এ জাতীয় দেউলিয়াপনা নতুন নয়। স্বার্থের জন্য আবর্জনাকেও তারা মাথায় রাখতে দ্বিধা করে না।

মূল লেখার সূত্র: এখানে ক্লিক করুন